নতুন গবেষণায় প্রমাণ : বিষণ্নতা ও উদ্বেগে ওষুধের মতোই কার্যকর হতে পারে ব্যায়াম।

Sanatan Patra
ব্যায়াম করছেন একজন নারী
সংবাদ লোগো
স্বাস্থ্য ডেস্ক
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিষণ্নতা ও উদ্বেগে আক্রান্ত মানুষের জন্য ব্যায়াম শুধু সহায়ক নয়, অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের মতোই কার্যকর হতে পারে—এমন তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক একটি বৃহৎ পরিসরের গবেষণা বিশ্লেষণে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘British Journal of Sports Medicine’-এ প্রকাশিত এক বিস্তৃত মেটা-অ্যানালাইসিসে দেখা গেছে, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং মানসিক চাপ কমাতে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

গবেষণাটি অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ অস্ট্রেলিয়ার গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। এতে ৯৭টি রিভিউ এবং এক হাজারের বেশি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বিশ্লেষণ করা হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল এক লাখ ২৮ হাজারেরও বেশি। গবেষকেরা বিভিন্ন বয়স ও শারীরিক অবস্থার মানুষের ওপর ব্যায়ামের প্রভাব পরীক্ষা করেন।

ফলাফলে দেখা যায়, মাঝারি থেকে উচ্চ মাত্রার শারীরিক অনুশীলন—যেমন দ্রুত হাঁটা, দৌড়, সাইক্লিং, সাঁতার কিংবা শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম—বিষণ্নতা ও উদ্বেগের উপসর্গ কমাতে উল্লেখযোগ্যভাবে সহায়ক। কিছু ক্ষেত্রে প্রভাবের মাত্রা প্রচলিত অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধ বা সাইকোথেরাপির সমতুল্য বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গবেষকেরা স্পষ্টভাবে বলেন, ব্যায়াম চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং একটি কার্যকর সম্পূরক পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের ব্যায়াম মানসিক স্বাস্থ্যে দৃশ্যমান উন্নতি আনে। বিশেষ করে তরুণ ও মধ্যবয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রভাব তুলনামূলক বেশি লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা রোগীদের মধ্যেও ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়।

গবেষকেরা ব্যাখ্যা করেন, ব্যায়াম শরীরে এন্ডোরফিন ও সেরোটোনিনের মতো নিউরোকেমিক্যালের নিঃসরণ বাড়ায়, যা মেজাজ উন্নত করতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম ঘুমের মান উন্নত করে, আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং সামাজিক সম্পৃক্ততা তৈরি করে—যা মানসিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৮ কোটির বেশি মানুষ বিষণ্নতায় আক্রান্ত। উদ্বেগজনিত ব্যাধিও বিশ্বব্যাপী অন্যতম সাধারণ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রেক্ষাপটে কম খরচে ও সহজলভ্য একটি পদ্ধতি হিসেবে ব্যায়াম জনস্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, গুরুতর বিষণ্নতা বা আত্মহানির ঝুঁকির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ব্যায়ামের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ, কাউন্সেলিং এবং জীবনধারা পরিবর্তনের সমন্বিত পদ্ধতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন জীবনে ছোট পরিবর্তন—যেমন নিয়মিত হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার, সকালের হালকা ব্যায়াম বা দলীয় খেলাধুলা—মানসিক সুস্থতায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিততা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

গবেষণাটি আবারও দেখাল, মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে শারীরিক সুস্থতা উপেক্ষা করা যায় না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্রমবর্ধমান প্রমাণ বলছে, শরীর ও মনের সম্পর্ক গভীর এবং পারস্পরিক। সেই জায়গা থেকে ব্যায়াম শুধু শরীর নয়, মানসিক সুস্থতারও শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।
...

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top