আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আল–জাজিরা অবলম্বনে
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক পাল্টা শুল্কারোপের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করে রায় দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যা পরে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। আমদানিকারকদের এ শুল্ক দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ আপডেট হওয়া তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, তিনি একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন এবং তা ‘অবিলম্বে’ কার্যকর হবে। এর ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যচুক্তি, চলমান শুল্কহার এবং পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সিউল থেকে প্রতিবেদক জ্যাক বার্টন বলেন, “দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহৎ রাসায়নিক, ওষুধ ও সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোর জন্য সুপ্রিম কোর্টের রায় ইতিবাচক হতে পারে। কারণ, আগের তুলনায় তাদের শুল্কের হার কম থাকতে পারে।”
তবে গাড়ি ও ইস্পাত খাত নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। ‘সেকশন ২৩২’-এর আওতায় ইস্পাতে ৫০ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে। এ খাতে আদালতের রায় কোনো পরিবর্তন আনেনি।
‘দ্য ওয়্যার’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এম কে ভেনু বলেন, “সমালোচকেরা মনে করেন, অন্তর্বর্তী বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার আগে নয়াদিল্লির সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জন্য অপেক্ষা করা উচিত ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতীয় বাণিজ্য প্রতিনিধিদল পরবর্তী আলোচনার আগে রায়ের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে পারে।”
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ আপডেট হওয়া তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, তিনি একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন এবং তা ‘অবিলম্বে’ কার্যকর হবে। এর ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যচুক্তি, চলমান শুল্কহার এবং পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সতর্ক অবস্থান
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ‘ব্লু হাউস’ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বিদ্যমান বাণিজ্যচুক্তি পর্যালোচনা করা হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, “সরকার জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।”সিউল থেকে প্রতিবেদক জ্যাক বার্টন বলেন, “দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহৎ রাসায়নিক, ওষুধ ও সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোর জন্য সুপ্রিম কোর্টের রায় ইতিবাচক হতে পারে। কারণ, আগের তুলনায় তাদের শুল্কের হার কম থাকতে পারে।”
তবে গাড়ি ও ইস্পাত খাত নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। ‘সেকশন ২৩২’-এর আওতায় ইস্পাতে ৫০ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে। এ খাতে আদালতের রায় কোনো পরিবর্তন আনেনি।
ভারতের অনিশ্চয়তা
ভারত আগে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মার্কিন শুল্কের মুখোমুখি হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক বাণিজ্যচুক্তি হয়। তাতে ভারতের শীর্ষ রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়।‘দ্য ওয়্যার’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এম কে ভেনু বলেন, “সমালোচকেরা মনে করেন, অন্তর্বর্তী বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার আগে নয়াদিল্লির সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জন্য অপেক্ষা করা উচিত ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতীয় বাণিজ্য প্রতিনিধিদল পরবর্তী আলোচনার আগে রায়ের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে পারে।”
চীনের হিসাব-নিকাশ
বেইজিং থেকে আল–জাজিরার প্রতিনিধি রব ম্যাকব্রাইড জানান, চীনের প্রতিক্রিয়া এখনো সংযত। তিনি বলেন, “বাণিজ্যযুদ্ধ কারও জন্য মঙ্গলজনক নয়—চীনা দূতাবাসের বিবৃতিতে এ বার্তাই দেওয়া হয়েছে।”বিশ্লেষকদের ধারণা, চীনা পণ্যের ওপর গড় মার্কিন শুল্ক প্রায় ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ২১ শতাংশে নামতে পারে। করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে থাকা চীনের জন্য এটি স্বস্তির হতে পারে।
কানাডার সতর্ক বার্তা
কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক বলেন, “এখনো অনেক কাজ বাকি। কারণ ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ির ওপর শুল্ক বহাল রয়েছে।”অন্টারিওর প্রাদেশিক সরকারপ্রধান ডগ ফোর্ড মন্তব্য করেন, ইতিবাচক বার্তা এলেও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি।
মেক্সিকোর পর্যবেক্ষণ
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম জানিয়েছেন, তাঁর সরকার রায়ের প্রভাব খতিয়ে দেখবে। মেক্সিকো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।মেক্সিকো সিটি থেকে প্রতিবেদক জুলিয়া গ্লিয়ানো বলেন, “অন্যান্য দেশের তুলনায় মেক্সিকো তুলনামূলকভাবে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে।”
আইনি দৃষ্টিকোণ
যুক্তরাষ্ট্রের ‘মিজৌরি স্কুল অব ল’–এর ইমেরিটাস অধ্যাপক ফ্রাঙ্ক বোম্যান বলেন, “এ রায় গুরুত্বপূর্ণ। আদালত অর্থনৈতিক নীতির বিষয়ে রায় দেয়নি; বরং সিদ্ধান্ত দিয়েছে প্রেসিডেন্ট তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন।”তিনি আরও বলেন, “গত এক বছরে ট্রাম্প যা করেছেন, তা মূলত আইনকে পাত্তা না দেওয়া। এ পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এবার থামানোর সময় এসেছে।”
বৈশ্বিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের রায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্বল্পমেয়াদি অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি যুক্তরাষ্ট্রে সাংবিধানিক ভারসাম্য ও আইনের শাসনকে জোরদার করবে।একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে বৈশ্বিক বাজারের প্রতিক্রিয়া। নতুন শুল্ক কার্যকর হলে বহুজাতিক কোম্পানি ও বিনিয়োগ পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে।
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৩৮
...