আবৃতি আহমেদ
বিশেষ প্রতিবেদক
অতিপ্রাকৃত বা ভৌতিক ঘটনা নিয়ে সংগঠিত গবেষণা যে একটি আলাদা অনুসন্ধানক্ষেত্র হতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো সে ধারণা সামনে আনেন এড ও লরেইন ওয়ারেন। কয়েক দশক ধরে তাঁরা দাবি করেছেন, জীবদ্দশায় প্রায় ১০ হাজারের বেশি ভৌতিক বা প্যারানরমাল ঘটনার তদন্ত করেছেন। তাঁদের তদন্ত করা বহু ঘটনা পরবর্তীতে বই, টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং জনপ্রিয় ‘কনজুরিং ইউনিভার্স’ চলচ্চিত্রমালার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। সমর্থন যেমন পেয়েছেন, তেমনি কঠোর সমালোচনারও মুখোমুখি হয়েছেন এই দম্পতি।
এডওয়ার্ড ওয়ারেন মাইনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ব্রিজপোর্ট শহরে। তাঁর পরিবার ছিল ধর্মভীরু ক্যাথলিক। শৈশব থেকেই এড বাড়িতে অদ্ভুত ছায়া, শব্দ এবং অচেনা উপস্থিতি অনুভব করার কথা বলতেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা এসব কিছু প্রত্যক্ষ না করলেও এডের দাবি ছিল, ঘটনাগুলো বাস্তব। তাঁর বাবা বিষয়গুলোকে কল্পনা বা শিশুমনের ভ্রম হিসেবে ব্যাখ্যা করতেন।
লরেইন রিটা মোরান জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি, একই শহরে। ছোটবেলা থেকেই তিনি নিজেকে সংবেদনশীল ও ভিন্ন অভিজ্ঞতার অধিকারী মনে করতেন। তাঁর দাবি ছিল, কোনো কোনো স্থান বা বস্তু স্পর্শ করলে তিনি অতীতের ঘটনার ছাপ অনুভব করতে পারেন। কৈশোরে তিনি ধ্যানচর্চা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে নিজেকে ক্লেয়ারভয়েন্ট হিসেবে পরিচয় দেন। ১৯৪০–এর দশকে ব্রিজপোর্টের কলোনিয়াল থিয়েটারে তাঁদের প্রথম পরিচয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এড মার্কিন নৌবাহিনীতে যোগ দেন। যুদ্ধ শেষে ১৯৪৫ সালের ২২ মে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের একমাত্র কন্যা জুডির জন্ম হয় পরবর্তী সময়ে।
বিবাহের পর জীবিকা নির্বাহের জন্য এড বাড়ি রং করার কাজ করতেন। পাশাপাশি তিনি চিত্রাঙ্কন চালিয়ে যান। শহর বা শহরতলিতে যেসব বাড়ি নিয়ে ভৌতিক গুজব ছিল, সেসব বাড়ির ছবি আঁকতেন। ছবি নিয়ে বাড়ির মালিকদের সঙ্গে কথা বলতেন। অনেকেই তখন নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানাতেন। লরেইন ওইসব স্থানে উপস্থিত থেকে নিজের অনুভূতির কথা বলতেন। এভাবেই ধীরে ধীরে তাঁদের অনুসন্ধান কার্যক্রম গড়ে ওঠে।
১৯৫২ সালে তাঁরা প্রতিষ্ঠা করেন ‘নিউ ইংল্যান্ড সোসাইটি ফর সাইকিক রিসার্চ’ (NESPR)। এই সংগঠনের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের কাজকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেন। সংগঠনটির উদ্দেশ্য ছিল অভিযোগ পাওয়া অতিপ্রাকৃত ঘটনার তথ্য সংগ্রহ, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, অডিও রেকর্ড সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনে ধর্মীয় সহায়তা নেওয়া।
তাঁদের বিশ্বাস অনুযায়ী, সব ঘটনা এক ধরনের নয়। কিছু ক্ষেত্রে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা থাকতে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে অশুভ শক্তির উপস্থিতি থাকতে পারে। তাঁরা স্থানীয় ক্যাথলিক গির্জার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। গির্জা থেকে অনুমোদন পেলে কিছু ঘটনায় ধর্মীয় আচার বা এক্সরসিজম পরিচালিত হতো। তবে গির্জা সবসময় লিখিত ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ চাইত। ১৯৭৪ সালের নভেম্বর মাসে নিউইয়র্কের অ্যামিটিভিলে রোনাল্ড ডিফিও জুনিয়র তাঁর পরিবারের ছয় সদস্যকে হত্যা করেন। ১৯৭৫ সালে জর্জ ও ক্যাথি লুটজ বাড়িটি কিনে সেখানে ওঠেন এবং অস্বাভাবিক ঘটনার অভিযোগ তোলেন। তাঁদের আমন্ত্রণে ওয়ারেন দম্পতি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ‘অ্যামিটিভিল হরর’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
লুটজ পরিবারের দাবি ছিল, বাড়ির ভেতর অস্বাভাবিক ঠান্ডা, অদ্ভুত গন্ধ, শব্দ এবং ছায়া দেখা যেত। ওয়ারেন দম্পতি সেখানে গিয়ে ছবি ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নথি প্রস্তুত করেন। যদিও সমালোচকেরা পরবর্তীতে এসব ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ঘটনাটি তাঁদের পরিচিতি বাড়িয়ে দেয়।
১৯৭০–এর দশকে কানেকটিকাটে ‘অ্যানাবেল’ নামের একটি পুতুল নিয়ে তদন্ত করেন তাঁরা। দুই তরুণী অভিযোগ করেন, পুতুলটি নিজে নিজে স্থান পরিবর্তন করে এবং অদ্ভুত বার্তা রেখে যায়। ওয়ারেন দম্পতি পুতুলটি নিজেদের বাড়িতে নিয়ে কাচের বাক্সে সংরক্ষণ করেন। বাক্সে সতর্কবার্তা টানানো ছিল।
১৯৭৭ সালের ‘এনফিল্ড পোল্টারজিস্ট’ ঘটনাতেও তাঁরা যুক্ত হন। যুক্তরাজ্যের লন্ডনের এনফিল্ড এলাকায় একটি পরিবারের অভিযোগ ছিল, তাঁদের বাড়িতে অদৃশ্য শক্তির তৎপরতা চলছে। স্থানীয় তদন্তকারীদের পাশাপাশি ওয়ারেন দম্পতির উপস্থিতি ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত করে তোলে।
১৯৮১ সালে কানেকটিকাটের ব্রুকফিল্ডে আরনি জনসনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। তাঁর আইনজীবীরা দাবি করেন, তিনি অশুভ শক্তির প্রভাবে অপরাধ করেছেন। ওয়ারেন দম্পতি এই মামলায় সংশ্লিষ্ট ছিলেন। আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ না করলেও এটি মার্কিন আইনি ইতিহাসে আলোচিত একটি ঘটনা হিসেবে রয়ে যায়।
১৯৮০ ও ১৯৯০–এর দশকে টেলিভিশন সাক্ষাৎকার, সেমিনার এবং বইয়ের মাধ্যমে তাঁদের জনপ্রিয়তা বাড়ে। একই সঙ্গে সংশয়বাদী গবেষকেরা তাঁদের তদন্তের প্রমাণ ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সমালোচকদের মতে, বৈজ্ঞানিক যাচাইয়ের পর্যাপ্ত ভিত্তি সব ক্ষেত্রে উপস্থাপন করা হয়নি।
মনরো, কানেকটিকাটে তাঁদের বাড়ির বেজমেন্টে সংগৃহীত বস্তু নিয়ে গড়ে ওঠে ‘ওয়ারেন অকাল্ট মিউজিয়াম’। বিভিন্ন তদন্ত থেকে সংগৃহীত সামগ্রী সেখানে সংরক্ষণ করা হতো। দর্শনার্থীদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হতো কোনো বস্তু স্পর্শ না করতে।
২০০৬ সালের ২৩ আগস্ট এড ওয়ারেন মৃত্যুবরণ করেন। ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল লরেইন ওয়ারেনও মৃত্যুবরণ করেন। তাঁদের মৃত্যুর পরও তাঁদের নাম ঘিরে চলচ্চিত্র, ডকুমেন্টারি ও বই প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে। ২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য কনজরিং’ চলচ্চিত্র তাঁদের তদন্ত করা একটি ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়। পরবর্তীতে ‘অ্যানাবেল’, ‘দ্য নান’, ‘দ্য ডেভিল মেড মি ডু ইট’সহ একাধিক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কনজুরিং: দ্য লাস্ট রাইটস’ এই ধারার সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে আলোচিত হয়েছে।
প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে অতিপ্রাকৃত ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান চালানো এই দম্পতি যুক্তরাষ্ট্রে প্যারানরমাল গবেষণার ইতিহাসে একটি আলোচিত অধ্যায় হয়ে আছেন। তাঁদের কাজ নিয়ে মতভেদ থাকলেও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে তাঁদের প্রভাব স্পষ্ট।
সূত্র: ফ্যানডম, অল দ্যাটস ইন্টারেস্টিং, ইউএস গোস্ট অ্যাডভেনচার, কানেটিকাট পোস্ট, রেডইট।
এডওয়ার্ড ওয়ারেন মাইনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ব্রিজপোর্ট শহরে। তাঁর পরিবার ছিল ধর্মভীরু ক্যাথলিক। শৈশব থেকেই এড বাড়িতে অদ্ভুত ছায়া, শব্দ এবং অচেনা উপস্থিতি অনুভব করার কথা বলতেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা এসব কিছু প্রত্যক্ষ না করলেও এডের দাবি ছিল, ঘটনাগুলো বাস্তব। তাঁর বাবা বিষয়গুলোকে কল্পনা বা শিশুমনের ভ্রম হিসেবে ব্যাখ্যা করতেন।
লরেইন রিটা মোরান জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি, একই শহরে। ছোটবেলা থেকেই তিনি নিজেকে সংবেদনশীল ও ভিন্ন অভিজ্ঞতার অধিকারী মনে করতেন। তাঁর দাবি ছিল, কোনো কোনো স্থান বা বস্তু স্পর্শ করলে তিনি অতীতের ঘটনার ছাপ অনুভব করতে পারেন। কৈশোরে তিনি ধ্যানচর্চা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে নিজেকে ক্লেয়ারভয়েন্ট হিসেবে পরিচয় দেন। ১৯৪০–এর দশকে ব্রিজপোর্টের কলোনিয়াল থিয়েটারে তাঁদের প্রথম পরিচয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এড মার্কিন নৌবাহিনীতে যোগ দেন। যুদ্ধ শেষে ১৯৪৫ সালের ২২ মে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের একমাত্র কন্যা জুডির জন্ম হয় পরবর্তী সময়ে।
বিবাহের পর জীবিকা নির্বাহের জন্য এড বাড়ি রং করার কাজ করতেন। পাশাপাশি তিনি চিত্রাঙ্কন চালিয়ে যান। শহর বা শহরতলিতে যেসব বাড়ি নিয়ে ভৌতিক গুজব ছিল, সেসব বাড়ির ছবি আঁকতেন। ছবি নিয়ে বাড়ির মালিকদের সঙ্গে কথা বলতেন। অনেকেই তখন নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানাতেন। লরেইন ওইসব স্থানে উপস্থিত থেকে নিজের অনুভূতির কথা বলতেন। এভাবেই ধীরে ধীরে তাঁদের অনুসন্ধান কার্যক্রম গড়ে ওঠে।
১৯৫২ সালে তাঁরা প্রতিষ্ঠা করেন ‘নিউ ইংল্যান্ড সোসাইটি ফর সাইকিক রিসার্চ’ (NESPR)। এই সংগঠনের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের কাজকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেন। সংগঠনটির উদ্দেশ্য ছিল অভিযোগ পাওয়া অতিপ্রাকৃত ঘটনার তথ্য সংগ্রহ, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, অডিও রেকর্ড সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনে ধর্মীয় সহায়তা নেওয়া।
তাঁদের বিশ্বাস অনুযায়ী, সব ঘটনা এক ধরনের নয়। কিছু ক্ষেত্রে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা থাকতে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে অশুভ শক্তির উপস্থিতি থাকতে পারে। তাঁরা স্থানীয় ক্যাথলিক গির্জার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। গির্জা থেকে অনুমোদন পেলে কিছু ঘটনায় ধর্মীয় আচার বা এক্সরসিজম পরিচালিত হতো। তবে গির্জা সবসময় লিখিত ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ চাইত। ১৯৭৪ সালের নভেম্বর মাসে নিউইয়র্কের অ্যামিটিভিলে রোনাল্ড ডিফিও জুনিয়র তাঁর পরিবারের ছয় সদস্যকে হত্যা করেন। ১৯৭৫ সালে জর্জ ও ক্যাথি লুটজ বাড়িটি কিনে সেখানে ওঠেন এবং অস্বাভাবিক ঘটনার অভিযোগ তোলেন। তাঁদের আমন্ত্রণে ওয়ারেন দম্পতি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ‘অ্যামিটিভিল হরর’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
লুটজ পরিবারের দাবি ছিল, বাড়ির ভেতর অস্বাভাবিক ঠান্ডা, অদ্ভুত গন্ধ, শব্দ এবং ছায়া দেখা যেত। ওয়ারেন দম্পতি সেখানে গিয়ে ছবি ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নথি প্রস্তুত করেন। যদিও সমালোচকেরা পরবর্তীতে এসব ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ঘটনাটি তাঁদের পরিচিতি বাড়িয়ে দেয়।
১৯৭০–এর দশকে কানেকটিকাটে ‘অ্যানাবেল’ নামের একটি পুতুল নিয়ে তদন্ত করেন তাঁরা। দুই তরুণী অভিযোগ করেন, পুতুলটি নিজে নিজে স্থান পরিবর্তন করে এবং অদ্ভুত বার্তা রেখে যায়। ওয়ারেন দম্পতি পুতুলটি নিজেদের বাড়িতে নিয়ে কাচের বাক্সে সংরক্ষণ করেন। বাক্সে সতর্কবার্তা টানানো ছিল।
১৯৭৭ সালের ‘এনফিল্ড পোল্টারজিস্ট’ ঘটনাতেও তাঁরা যুক্ত হন। যুক্তরাজ্যের লন্ডনের এনফিল্ড এলাকায় একটি পরিবারের অভিযোগ ছিল, তাঁদের বাড়িতে অদৃশ্য শক্তির তৎপরতা চলছে। স্থানীয় তদন্তকারীদের পাশাপাশি ওয়ারেন দম্পতির উপস্থিতি ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত করে তোলে।
১৯৮১ সালে কানেকটিকাটের ব্রুকফিল্ডে আরনি জনসনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। তাঁর আইনজীবীরা দাবি করেন, তিনি অশুভ শক্তির প্রভাবে অপরাধ করেছেন। ওয়ারেন দম্পতি এই মামলায় সংশ্লিষ্ট ছিলেন। আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ না করলেও এটি মার্কিন আইনি ইতিহাসে আলোচিত একটি ঘটনা হিসেবে রয়ে যায়।
১৯৮০ ও ১৯৯০–এর দশকে টেলিভিশন সাক্ষাৎকার, সেমিনার এবং বইয়ের মাধ্যমে তাঁদের জনপ্রিয়তা বাড়ে। একই সঙ্গে সংশয়বাদী গবেষকেরা তাঁদের তদন্তের প্রমাণ ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সমালোচকদের মতে, বৈজ্ঞানিক যাচাইয়ের পর্যাপ্ত ভিত্তি সব ক্ষেত্রে উপস্থাপন করা হয়নি।
মনরো, কানেকটিকাটে তাঁদের বাড়ির বেজমেন্টে সংগৃহীত বস্তু নিয়ে গড়ে ওঠে ‘ওয়ারেন অকাল্ট মিউজিয়াম’। বিভিন্ন তদন্ত থেকে সংগৃহীত সামগ্রী সেখানে সংরক্ষণ করা হতো। দর্শনার্থীদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হতো কোনো বস্তু স্পর্শ না করতে।
২০০৬ সালের ২৩ আগস্ট এড ওয়ারেন মৃত্যুবরণ করেন। ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল লরেইন ওয়ারেনও মৃত্যুবরণ করেন। তাঁদের মৃত্যুর পরও তাঁদের নাম ঘিরে চলচ্চিত্র, ডকুমেন্টারি ও বই প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে। ২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য কনজরিং’ চলচ্চিত্র তাঁদের তদন্ত করা একটি ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়। পরবর্তীতে ‘অ্যানাবেল’, ‘দ্য নান’, ‘দ্য ডেভিল মেড মি ডু ইট’সহ একাধিক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কনজুরিং: দ্য লাস্ট রাইটস’ এই ধারার সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে আলোচিত হয়েছে।
প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে অতিপ্রাকৃত ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান চালানো এই দম্পতি যুক্তরাষ্ট্রে প্যারানরমাল গবেষণার ইতিহাসে একটি আলোচিত অধ্যায় হয়ে আছেন। তাঁদের কাজ নিয়ে মতভেদ থাকলেও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে তাঁদের প্রভাব স্পষ্ট।
সূত্র: ফ্যানডম, অল দ্যাটস ইন্টারেস্টিং, ইউএস গোস্ট অ্যাডভেনচার, কানেটিকাট পোস্ট, রেডইট।
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
...


