নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কার্যালয় পুনরায় খোলার খবর নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আইনগত কাঠামোর আলোকে দেখা হবে এবং যেখানে যে সিদ্ধান্ত কার্যকর রয়েছে, তা অনুসরণ করেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর এই প্রথম কোনো মন্ত্রী হিসেবে তিনি নয়াপল্টনের এই কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যান। সেখানে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
সাংবাদিকেরা জানতে চান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের অফিস খোলার খবর পাওয়া যাচ্ছে—এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কী। জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার এমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তিনি বলেন, যদি আইনগতভাবে কোনো দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকে, তবে সেই অবস্থান বলবৎ থাকবে। সব ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে যে বিধান রয়েছে, তা লঙ্ঘন করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সরকার কোনো দলকে আলাদা সুবিধা দেবে না এবং কোনো ধরনের আইনবহির্ভূত কার্যক্রমকে অনুমোদনও দেবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নয়াপল্টনের এই কার্যালয়ের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, অতীতে বিএনপির বড় বড় আন্দোলন ও কর্মসূচি এই কার্যালয় থেকেই পরিচালিত হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হতো।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিগত সময়ের আন্দোলনগুলো দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি দাবি করেন, সেসব কর্মসূচি জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করেছে এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্ধারিত সময় ও সরকারি বিধি মেনেই নির্বাচন আয়োজন করা হবে। তিনি জানান, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ আলাদা আলাদা সময়ে শেষ হচ্ছে। সবগুলো বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব হলো সংবিধান ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন করা। কোথাও মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেখানে বিলম্ব না করে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সরকার অগ্রাধিকার দেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের সরাসরি সেবার সঙ্গে যুক্ত। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, যারা মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন এবং জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন, তাঁদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।
তিনি স্পষ্ট করেন, সংরক্ষিত নারী আসন কেবল আনুষ্ঠানিক পদ নয়; সেখানে এমন ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হবে, যারা সংসদে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম। দলীয় নীতিমালা ও অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নয়াপল্টনে এই সফর ও বক্তব্য নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করেছে। একদিকে আইনগত কাঠামোর প্রতি অঙ্গীকারের বার্তা, অন্যদিকে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা—দুই বিষয়ই রাজনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ।
আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার প্রশ্নে সরকার ভবিষ্যতে কী ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত ঘোষণা আসেনি। তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনই হবে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
সার্বিকভাবে নয়াপল্টনের এই বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইন, নির্বাচন ও দলীয় পুনর্গঠন—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা সাজানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর এই প্রথম কোনো মন্ত্রী হিসেবে তিনি নয়াপল্টনের এই কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যান। সেখানে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
সাংবাদিকেরা জানতে চান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের অফিস খোলার খবর পাওয়া যাচ্ছে—এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কী। জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার এমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তিনি বলেন, যদি আইনগতভাবে কোনো দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকে, তবে সেই অবস্থান বলবৎ থাকবে। সব ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে যে বিধান রয়েছে, তা লঙ্ঘন করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সরকার কোনো দলকে আলাদা সুবিধা দেবে না এবং কোনো ধরনের আইনবহির্ভূত কার্যক্রমকে অনুমোদনও দেবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নয়াপল্টনের এই কার্যালয়ের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, অতীতে বিএনপির বড় বড় আন্দোলন ও কর্মসূচি এই কার্যালয় থেকেই পরিচালিত হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হতো।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিগত সময়ের আন্দোলনগুলো দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি দাবি করেন, সেসব কর্মসূচি জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করেছে এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্ধারিত সময় ও সরকারি বিধি মেনেই নির্বাচন আয়োজন করা হবে। তিনি জানান, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ আলাদা আলাদা সময়ে শেষ হচ্ছে। সবগুলো বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব হলো সংবিধান ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন করা। কোথাও মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেখানে বিলম্ব না করে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সরকার অগ্রাধিকার দেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের সরাসরি সেবার সঙ্গে যুক্ত। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, যারা মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন এবং জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন, তাঁদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।
তিনি স্পষ্ট করেন, সংরক্ষিত নারী আসন কেবল আনুষ্ঠানিক পদ নয়; সেখানে এমন ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হবে, যারা সংসদে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম। দলীয় নীতিমালা ও অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নয়াপল্টনে এই সফর ও বক্তব্য নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করেছে। একদিকে আইনগত কাঠামোর প্রতি অঙ্গীকারের বার্তা, অন্যদিকে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা—দুই বিষয়ই রাজনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ।
আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার প্রশ্নে সরকার ভবিষ্যতে কী ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত ঘোষণা আসেনি। তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনই হবে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
সার্বিকভাবে নয়াপল্টনের এই বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইন, নির্বাচন ও দলীয় পুনর্গঠন—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা সাজানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
...