টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে দাপুটে জয় পেয়েছে । নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা কে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় অনুষ্ঠিত গ্রুপ বি’র এই ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে ওমান। শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। শেষ পর্যন্ত ১৯.৫ ওভারে মাত্র ১০৩ রানেই গুটিয়ে যায় ওমানের ইনিংস।
ওমানের ব্যাটিং ইনিংসের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। প্রথম পাঁচ ব্যাটারই দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে ব্যর্থ হন। মাত্র ২৭ রানের মধ্যেই দলটি হারায় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। শুরুর এই ধাক্কা থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা।
মাঝের দিকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন সুফিয়ান মেহমুদ, বিনায়ক শুক্লা ও নাদিম খান। সুফিয়ান ৩৯ বলে করেন ২৫ রান, বিনায়ক ২১ বলে যোগ করেন ২৮ রান এবং নাদিম খান ১৮ বলে করেন ২০ রান। এই তিনজনের চেষ্টাতেই ওমান কোনোভাবে শতরানের গণ্ডি পার করে।
জিম্বাবুয়ের বোলারদের মধ্যে এদিন সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন পেসাররা। ও দুজনই একটি করে মেডেনসহ তিনটি করে উইকেট নেন। মুজারাবানি ১৬ রান ও এনগারাভা ১৭ রান খরচ করেন।
তাদের সঙ্গে দুর্দান্ত সহায়তা করেন ব্র্যাড ইভান্স। তিনি ১৮ রান দিয়ে শিকার করেন তিনটি উইকেট। তিন পেসার মিলে মাত্র ৪৮ রানে তুলে নেন ওমানের ৯টি উইকেট। এই বোলিং নৈপুণ্যই ম্যাচের মোড় পুরোপুরি জিম্বাবুয়ের দিকে ঘুরিয়ে দেয়।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে দুই উইকেট হারালেও কোনো চাপ অনুভব করেনি জিম্বাবুয়ে। চতুর্থ ওভারে তাদিওয়ানাশে মারুমানি ও ডিয়ন মায়ার্স আউট হলেও এরপর দলের ইনিংসের ভার নেন ব্রায়ান বেনেট ও অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেলর।
বেনেট ও টেলর দুজনে মিলে ৬৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। এই জুটিতেই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। জয়ের একেবারে কাছাকাছি গিয়ে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ৩১ রান করা টেলর।
শেষ পর্যন্ত ব্রায়ান বেনেট ৩৬ বলে অপরাজিত ৪৮ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। তার ইনিংসে ছিল পরিমিত আক্রমণ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ের নিখুঁত সমন্বয়।
১৩.৩ ওভারে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে। হাতে থাকে ৩৯ বল, যা ম্যাচে তাদের পূর্ণ আধিপত্যই স্পষ্ট করে।
জয়ের ব্যবধানের চেয়েও মাঠে জিম্বাবুয়ের কর্তৃত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো। পেসারদের দাপটে তৈরি করা ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে ব্যাটাররা খুব সহজেই কাজ শেষ করেন। এই জয়ের মাধ্যমে প্রস্তুতি ম্যাচে ওমানের কাছে হারের প্রতিশোধও ভালোভাবেই নেয় সিকান্দার রাজার দল।
বিশ্বকাপে এই দারুণ সূচনা জিম্বাবুয়ের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে পেস আক্রমণের ধারাবাহিকতা এবং মিডল অর্ডারের স্থিরতা দলটির জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
গ্রুপ বি’র পরবর্তী ম্যাচগুলোতে এই ছন্দ ধরে রাখতে পারলে জিম্বাবুয়ের জন্য দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার পথ আরও সহজ হতে পারে। অন্যদিকে ওমানকে দ্রুত নিজেদের ভুল শুধরে পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওমান: ১৯.৫ ওভারে ১০৩ (সুফিয়ান ২৫, বিনায়ক ২৮, নাদিম ২০; এনগারাভা ৩/১৭, মুজারাবানি ৩/১৬, ইভান্স ৩/১৮)
জিম্বাবুয়ে: ১৩.৩ ওভারে ১০৬/২ (বেনেট ৪৮*, টেলর ৩১ আহত অবসর)
ফল: জিম্বাবুয়ে ৮ উইকেটে জয়ী